38.5 C
Dhaka
২১ এপ্রিল, রবিবার , ২০১৯ ১০:১৫:৩৮ অপরাহ্ণ
ভয়েস বাংলা
প্রচ্ছদ প্রবাস এক্সক্লুসিভ লাইফস্টাইল

আরব আমিরাতে ভিসা বন্ধের বলি আরও সাড়ে তিন’শ প্রবাসী

জাহাঙ্গীর কবীর বাপ্পি: গত সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধ রয়েছে। এই ভিসা বন্ধের সর্বশেষ বলি হতে যাচ্ছেন, আবুধাবির ওয়েস্টার্ন রিজিয়নের বিদা যায়েদ লিওয়া ও আবুধাবি সিটি’র সাড়ে তিন’শ বাংলাদেশি শ্রমিক। এরা আবুধাবি ওয়েস্টার্ন রিজিয়ন মিউনিসিপ্যালিটিতে ও আবুধাবি সিটিতে কর্মরত আল দাফরা ইরিগেশান কোম্পানির কর্মচারী। নগরীর সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি ও গার্ডেন পরিচর্চার কাজ করেন এইসব প্রবাসী বাংলাদেশিরা। হালকা ও ভারী মেশিন অপারেটর, ট্রাক্টর চালক, ইরিগেশান কর্মী, গার্ডেনারসহ স্ব স্ব পেশায় এদের ৯০ শতাংশই দক্ষ কর্মী বলে জানা গেছে। আগামী ৩১শে মার্চ মিউনিসিপ্যালিটির সাথে তাদের কোম্পানির কাজের চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হচ্ছে যাচ্ছে। এতে করে ১ এপ্রিল থেকে কর্মহীন হয়ে পড়বেন এইসব শ্রমিকেরা। কোম্পানিতে কর্মরত ভারতীয়, পাকিস্তানি, মিশরীয়, নেপালী ও সুদানী শ্রমিকেরা মিউনিসিপ্যালিটির নতুন কাজপ্রাপ্ত কোম্পানি ওয়েস্টার্ন বীচে তাদের ভিসা ট্রান্সফার করতে শুরু করেছেন। কিন্তু আমিরাতে বাংলাদেশিদের সব ধরনের নতুন ভিসা ইস্যু ও ভিসা ট্রান্সফার বন্ধের কারণে বাংলাদেশিরা তা করতে পারছেন না। কোম্পানির বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে দেশে ফিরে যেতে হবে এই আতঙ্কে এখন দিন কাটছে সবার।

অথচ কাজ করার যোগ্যতায়, নিষ্ঠা ও দক্ষতায় বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি অন্যান্য বিদেশী কর্মীদের চেয়েও অনেক বেশি। এছাড়াও এখানে কর্মরত বেশির ভাগ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের আমিরাতে ১০/২০ ও ৩০ বছর নিজ পেশায় কাজ করার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমনকি নতুন কোম্পানিও যোগ্যতা অনুযায়ী বাংলাদেশিদের তাদের প্রতিষ্ঠানে কাজ দিতে আগ্রহী।

কোম্পানির সুপারভাইজার সিলেটের বিয়ানী বাজারের বাসিন্দা ইমদাদুল ইসলাম খান বিগত ৩৮ বছর ধরে আমিরাত প্রবাসে আছেন। ২৮ বছর কাজ করেছেন আবুধাবি মিউনিসিপ্যালিটিতে ও পরে আল দাফরা ইরিগেশান কোম্পানিতে। তিনি বললেন, দেশে ফিরে গিয়ে কি করব? সংসার কি করে চলবে আর এ বয়সে কে কাজ দেবে? তার ভাষায়- “দেশ’র লাগি আমরা অছল।” তিনি জানালেন তার অধীনে কর্মরত অন্য দেশীরা নতুন কোম্পানিতে ভিসা ট্রান্সফার করলেও প্রায় সাড়ে ৩’শ বাংলাদেশি কেবল ভিসা সংকটের কারণে তা করতে পারছেন না। অথচ এদের ৯০ ভাগই দক্ষ কর্মী।

১৯ বছর ধরে প্রবাসে কোম্পানির ফোরম্যান হিসেবে নিয়োজিত নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, আমাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারনে নতুন কোম্পানি আমাদের সবার কাজ দিতে রাজি হলেও বাংলাদেশিদের ভিসা বন্ধ থাকার কারনে দেশে ফিরে যেতে হবে।

গার্ডেনার পেশায় থাকা সন্দ্বীপের আশরাফুল আলম বলেন, ‘‘এক হাজার দিরহাম কামাইলে দেশত দেড় হাজার দিরহাম হাডান লাগে, খরছা ফাতি বাড়ি গেছে।’’

এইসব শ্রমিকেরা এমনিতেই ঋণের বোঝা নিয়ে আছেন। এ অবস্থায় দেশে ফিরে যেতে হলে কি করবেন প্রশ্ন তার। সিলেটের বিয়ানীবাজারের বাসিন্দা উটের জকি হিসেবে এ দেশে আসেন। এখন “মাকিনা” (মেশিন) চালান। কি মাকিনা জানতে চাইলে জানালেন বাগানে ঔষধ ছিটানোর মেশিন। বললেন,”আমি দেশঅ যাইতাম নাই, বহুত খর্জ আছে…!” স্পষ্ট জানালেন “খাল্লিবাল্লি” (অবৈধ) হয়ে থেকে যাবেন। তবু দেশে ফিরে যাবেন না। নোয়াখালীর সোনাইমুড়ির জামাল হোসেন এর কথায়, “ভাই আমাদের তো একটা সাইনবো্র্ড আছে আমরা বিদেশে থাকি, দেশে তো কেউ আমাদের কাজও দিতো না…!”

সংযুক্ত আরব আমিরাতে সব সময়েই দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সেখানে কেবল ভিসা সংকটের কারনে এভাবে এই প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষগুলোকে দেশে ফিরে যেতে হলে তা একদিকে যেমন তাদের পরিবার পরিজনদের জন্য দুর্ভোগ বয়ে আনবে তেমনি তা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

উল্লেখ্য, গত বছরের শেষ নাগাদ আবুধাবির গ্রীন সিটি আল আইন এর মাজিয়াদ লেবার ক্যাম্পে অবস্থানরত এম. বি. এম. ডাল্লাহ কোম্পানির ৭-৮শ প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকের কাজ হারানো কিংবা আগামী ৩১ মার্চ মাদিনাত যায়েদ (বিদা যায়েদ) এর আল দাফরা ইরিগেশন কোম্পানির সাড়ে তিন’শ রেমিটেন্স সৈনিকের কাজ হারাতে বসার ঘটনাগুলো একই সূত্রে গাঁথা। তাই কোম্পানির কাজের চুক্তি শেষ হয়ে যাওয়া এই প্রবাসী মুখগুলোর সামনে এখন হাতছানি দিচ্ছে দূর্দিনের কালো ছায়া।

সম্পাদনা: কামরুন্নাহার রুমা

সম্পর্কিত

দেশে বাঘ, বিদেশে গেলেই বিড়াল

ডেস্ক রিপোর্ট

নিউ ইয়র্কে তিন দিনব্যাপী বাংলা বইমেলা’র প্রস্তুতি সম্পন্ন

ডেস্ক রিপোর্ট

মালয়েশিয়ায় ধরা পড়লো প্রতারক ড. হারুন, হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি

ডেস্ক রিপোর্ট

বৃটিশ বাংলাদেশি তাফসিয়ার এমআইটি জয়

ডেস্ক রিপোর্ট

মালয়েশিয়ায় বৈধতা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মুখে প্রবাসী বাংলাদেশিরা

ডেস্ক রিপোর্ট

প্রবাসে কর্মী পাঠানোতে বাংলাদেশের রেকর্ড

ডেস্ক রিপোর্ট

মতামত